ছোট ছোট পুকুরের চার দিকের পাড়ে অনেক গাছপালা থাকে। এই অবস্থায় কী ধরনের মাছ চাষ করা যেতে পারে? উ : এই ধরনের পুকুরে জিওল মাছ অর্থাৎ মাগুর, শিঙি জাতীয় মাছ চাষ করা যেতে পারে। জিওল মাছ কাদের বলা হয়? পোনা মাছ থেকে এরা কীসে আলাদা? উ : মাগুর, শিঙি জাতীয় মাছ, যাদের হাজা-মাজা পুকুরেও চাষ করা যায় এবং যাদের অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র আছে, তাদের জিওল মাছ বলে। চারিদিকের পাড়ে অনেক গাছপালা আছে এমন ছোট ছোট পুকুরকে জিওল মাছ চাষের উপযোগী করে তোলা যাবে কী করে? উ : প্রথমে পুকুরে আগাছা পরিষ্কার করে নিতে হবে। পাড়গুলো ভাঙা থাকলে বাঁধ ফেলা দরকার। গুঁড়িপানা বা কচুরিপানা থাকলে পরিষ্কার করে ফেলা দরকার। কাঠা প্রতি ১৫ কেজি মহুয়া খইল এবং ২ কিলোগ্রাম চুন জলে ছড়িয়ে পুকুরকে জিওল মাছ চাষের উপযোগী করে তোলা যাবে। জিওল মাছ চাষের উপযুক্ত সময় কোনটি? উ : সাধারণত মৌসুমী বৃষ্টি আসার সঙ্গে সঙ্গে জিওল মাছ ডিম পাড়ে। এই ডিম থেকে ধানি পোনা হতে সময় লাগে প্রায় আড়াই মাস। সুতরাং শ্রাবণ থেকে ভাদ্র মাসের সময় জিওল মাছের চাষ করা যেতে পারে। এই চাষ আষাঢ় মাস পর্যন্ত চলতে পারে। জিওল মাছ চাষে কোন কোন জাতের চারা কাঠা প্রতি কত কত ছাড়া প্রয়োজন? উ : কেবল মাগুর মাছের চাষ করলে কাঠা প্রতি ৫০০টি মাগুর চারাপোনা ছাড়া দরকার। পুকুরে ছাড়ার আগে লিটার প্রতি জলে ১০ ফোঁটা ফরমালিন গুলে সেই জলে মাগুর চারাপোনা প্রায় এক মিনিট ছেড়ে তার পর পুকুরে ছাড়া দরকার। জিওল মাছ চাষে কত বয়সের এবং কত বড় চারা মাছ পুকুরে ছাড়া দরকার? উ : জিওল মাছের চারাপোনার বয়স আড়াই মাস থেকে তিন মাস হলে যখন ৪ ইঞ্চি বা ৫ ইঞ্চি বড় হয় তখন চাষের জন্য পুকুরে ছাড়া দরকার। জিওল মাছের ভালো বাড়ের জন্য কী কী খাবার কী ভাবে পুকুরে দিতে হবে? উ : জিওল মাছের ভালো উত্পাদন পেতে হলে বাদাম খইলের সঙ্গে শুটকি মাছের গুঁড়ো ও ধানের কুঁড়োর মিশ্রণ করে প্রতি দিন শরীরের ওজনের ২ থেকে ৩ শতাংশ জলে ছড়িয়ে দিতে হবে। জিওল মাছ চাষে চারা মাছ ছাড়ার পর কী কী পরিচর্যা করা দরকার? উ : মাঝে মধ্যে জাল টেনে ধরে দেখা দরকার মাছের কোনও রোগ হয়েছে কি না। রোগ হয়ে থাকলে সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। জিওল মাছ কত বড় হলে বাজারে পাঠানোর জন্য পুকুর থেকে তোলা দরকার? উ : ছয় মাস পুকুরে চাষ করার পর বৈশাখ– জ্যৈষ্ঠ মাস নাগাদ মাছ তুলে বেচে দেওয়া দরকার। এক কাঠা পরিমাণ জলায় বছরে কত পরিমাণ জিওল মাছের উত্পাদন হতে পারে? উ : এক কাঠা পরিমাণ জলায় বছরে প্রায় ২০ কিলোগ্রাম মতো মাছ উত্পাদিত হতে পারে। জিওল মাছের চাষে এক কাঠা পরিমাণ জলায় বছরে কত খরচ ও লাভ হতে পারে? উ : এক কাঠা পরিমাণ পুকুরে জিওল মাছ চাষ করতে প্রায় ৮০০ টাকার মতো খরচ হয়। আর লাভ হয় প্রায় ১০০০ টাকার কাছাকাছি। জিওল মাছের চারাপোনা কোথা থেকে পাওয়া যাবে? উ : সরকারি হ্যাচারিতে জিওল মাছের চারাপোনা পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া ক্যানিং ও বসিরহাটের বাজারেও পাওয়া যেতে পারে। জিওল মাছের কী কী রোগ হয়? উ : বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জিওল মাছ চাষ করলে সাধারণ কোনও রোগ হয় না। তবুও গায়ে ঘা, ঠোঁট লাল ও পাখনা দ্রুত খসে পড়া ইত্যাদি রোগ দেখা যায়। জিওল মাছের রোগগুলির প্রতিকার কী কী? উ : গায়ে ঘা, ঠোঁট লাল ও পাখনা দ্রুত খসে পড়া ইত্যাদি রোগ হলে প্রতি কেজি খাবারের সঙ্গে ১০ মিলিগ্রাম টেরামাইসিন বা সালফাডাইজিন ৭ দিন ধরে দেওয়া দরকার।