মাছ চাষের সঙ্গে হাঁস পালন পদ্ধতিতে হাঁস পালনের জন্য কী কী করা প্রয়োজন? উ : পকুর পাড়ে কম খরচে স্থায়ী জিনিসপত্র দিয়ে হাঁসের জন্য মজবুত ঘর তৈরি করতে হবে। প্রতিটি হাঁসের জন্য ৩ – ৪ বর্গ ফুট জায়গা দরকার। সুতরাং হাঁসের সংখ্যা অনুসারে সেই আকারের ঘর তৈরি করতে হবে। ঘরের এক কোণে ডিম পাড়ার জন্য কিছু শুকনো ঘাস রাখা দরকার। হাঁস পালনের জন্য ভালো জাতের সংকর হাঁস নির্বাচন করা দরকার। বিঘা প্রতি জলার জন্য কতগুলি হাঁস রাখা যেতে পারে? উ : প্রতি বিঘা জলার জন্য ৩৫ থেকে ৪০টি হাঁস রাখতে হবে। প্রতি ১০টি হাঁসের জন্য ১টি পুরুষ হাঁস যেন অবশ্যই থাকে। হাঁসকে কী ধরনের খাবার দিতে হবে? উ : পুকুরে চরার সময় হাঁসের প্রাকৃতিক খাবার যেমন গেঁড়ি, গুগলি, জলের পোকা ইত্যাদি খেয়ে থাকে। কিন্তু এই খাবার যথেষ্ট নয়। সেই জন্য প্রতিটি হাঁসকে প্রতি দিন গড়ে ১০০ গ্রাম করে সুষম খাবার দিতে হবে। হাঁস যাতে রোগে না মারা যায় তার জন্য কী ব্যবস্থা নিতে হবে ? একটু নজর রাখলে হাঁসের ডাক বা খাবার ধরন দেখে বোঝা যায় সুস্থ কি না। হাঁসের চোখ ফ্যাকাসে হলে বা পাতলা পায়খানা করলে সঙ্গে সঙ্গে পশু চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখা দরকার যে হাঁসগুলিকে ডিম পাড়ার জন্য সন্ধ্যা থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত ঘরের মধ্যে রাখতে হবে। প্রতি দিন সকালে হাঁসের থাকার ঘর পরিষ্কার করতে হবে। এক বছর চাষ করার পর কত মাছ, কতগুলি ডিম এবং কত হাঁসের মাংস পাওয়া যাবে? উ : মাছ চাষের সঙ্গে হাঁস পালন পদ্ধতিতে ৪৫০ কিলোগ্রাম মাছ, ৪৫০০টি ডিম ও প্রায় ৬০ কিলোগ্রাম মতো মাংস পাওয়া যেতে পারে। এক বিঘা পুকুরে এই রকম চাষ করলে কত খরচ হবে? উ : এই রকম চাষে বিঘা প্রতি খরচ হবে প্রায় ১৫০০০ টাকা। মাছ, ডিম ও হাঁসের মাংস বিক্রি করে কত টাকা পাওয়া যাবে? উ : মাছ চাষের সঙ্গে হাঁস পালন করে, মাছ, ডিম ও হাঁসের মাংস বিক্রয়ের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১৫০০০ টাকা লাভ করা যায়।