সুসংহত পদ্ধতিতে মাছ চাষ বলতে কী বোঝায়? উ : মাছ চাষের সঙ্গে যখন অন্য কোনও চাষ যেমন হাঁস, মুরগি ইত্যাদি একত্রে একই ব্যবস্থাপনায় এনে কম খরেচ উত্পাদন বাড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তখন তাকে সুসংহত মাছ চাষ বলে। মাছ চাষের সঙ্গে হাঁস পালন করে কী কী উপকার পাওয়া যায়? উ : হাঁসের মল পুকুরে পড়ে সরাসরি জৈব সারের কাজ করে। তাই মাছ চাষে অন্য কোনও সার বেশি লাগে না। মাছের পক্ষে ক্ষতিকারক জলজ উদ্ভিদ ও পোকামাকড় খেয়ে হাঁস-পুকুরের পরিবেশ ঠিক রাখে। মাছ চাষের সঙ্গে হাঁস পালন করার জন্য কোন ধরনের পুকুর উপযোগী? উ : সারা বছর জল থাকে, মোটামুটি আয়তাকার মাঝারি মাপের পুকুরই ভালো। মাছের চাষের সঙ্গে হাঁস পালন পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য কী কী কাজ করতে হবে? উ : পুকুর থেকে জলজ উদ্ভিদ তুলে ফেলতে হবে। আগাছা মারার জন্য বিঘা প্রতি তিন ফুট জলের গভীরতার জন্য ৩০০ কিলো গ্রাম মহুয়া খইল দিতে হবে। মহুয়া খইল দেওয়ার ১০ থেকে ১২ দিন পরে বিঘা প্রতি ৩০ কিলোগ্রাম কলিচুন পুকুরে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং মহুয়া খইল দেওয়ার ২০ থেকে ২২ দিনের মাথায় ভালো করে জাল টানতে হবে যাতে পাঁকে কোনও গ্যাস না থাকে। মাছ চাষের সঙ্গে হাঁস পালন পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য বিঘা প্রতি কত মাছ ছাড়তে হবে? উ : বিঘা প্রতি ৮০০ সংখ্যক ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি মাপের ছয় রকম জাতের চারাপোনা ছাড়তে হবে। প্রতি ২০টি চারাপোনার মধ্যে কাতলা ৪টি, সিলভার কার্প ৪টি, রুই ৪টি, ঘেসো রুই ২টি, মৃগেল ৩টি ও আমেরিকান রুই ৩টি থাকা উচিত। মাছ চাষের সঙ্গে হাঁস পালন পদ্ধতিতে পুকুরে মাছ ছাড়ার পর আর কী কী পরিচর্যা করা দরকার? উ : প্রতি মাসে কম পক্ষে ৩০ কিলো গ্রাম চুন জলে গুলে পুকুরে ছাড়াতে হবে। প্রতি মাসে কমপক্ষে এক বার ভালো করে জাল টেনে পাঁকের গ্যাস দূর করতে হবে এবং মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। এই জাতীয় চাষে মাছের জন্য কোনও সার বা খাবার দেওয়া দরকার হয় না।