গোড়া ও মূল পঁচা রোগ (Foot and root rot) রোগ রোগের কারণ স্কেলেরোশিয়াম রলফসি (Sclerotium rolfsii) / ফিউজারিয়াম (Fusarium) / রাইজোকটনিয়া (Rhizoctonia) নামক ছত্রাক দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে। রোগের বিস্তার গাছের চারা অবস্থা থেকে পূর্ণতাপ্রাপ্ত পর্যন্ত এ রোগের আক্রমন দেখা যায়। সাধারণত খরিফ মৌসুমে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী হয়। রোগের লক্ষণ চারা বা বড় গাছের পাতা হলুদ হওয়া দেখেই মাঠে এ রোগের আক্রমণ সনাক্ত করা যায়। আক্রান্ত গাছের গোড়া ও মূলে খয়েরী বা কালো দাগ দেখা যায়। আক্রান্ত গাছের গোড়ায় সাদা মাইসেলিয়াম এবং গোলাকার সরিষার দানার মত স্ক্লেরোশিয়াম দেখা যায়। আক্রান্ত চারা বা গাছ ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায় এবং অবশেষে মারা যায়। রোগের প্রতিকার জমিতে শস্য পর্যায় অবলম্বন করতে হবে। কার্বেন্ডাজিম (যেমন-অটোস্টিন) অথবা কার্বোক্সিন + থিরাম (যেমন-প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি) প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে শোধন করতে হবে। এই ছত্রাকটি সাধারণত মাটির উপরিভাগে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। সুতরাং গভীর চাষের মাধ্যমে মাটি আলগা করে ৩-৪ দিন রোদে শুকিয়ে রোগের উৎস নষ্ট করে আক্রমণ কমানো যায়। জমিতে ফসলের পরিত্যক্ত অংশ, আগাছা, আবর্জনা পরিস্কার করা হলে এ রোগের উৎস নষ্ট হবে। অর্ধকাচা মুরগির বিষ্ঠা হেক্টর প্রতি ৫ টন হারে বীজ বপনের কমপক্ষে ২-৩ সপ্তাহ আগে প্রয়োগ করতে হবে। কার্বেন্ডাজিম (যেমন-অটোস্টিন) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর গাছের গোড়ায় মাটিতে ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। মাথা পচা (Head rot) রোগ রোগের কারণ স্ক্লেরোটিনিয়া স্ক্লেরোশিয়োরাম (Sclerotinia sclerotiorum) ও রাইজোপাস প্রজাতি (Rhizopus sp.) নামক ছত্রাক দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে। রোগের বিস্তার রোগটি মাটি বাহিত। আর্দ্র আবহাওয়া রোগ বিস্তারের অনুকুল আবহাওয়া। বাতাসের তাপমাত্রা ২০-২৫ ডিগ্রি সেঃ ছত্রাকের এসকোস্পোর অংকুরোদগমের জন্য অনুকুল এবং মাটির তাপমাত্রা ১০-১৫ ডিগ্রি সেঃ রোগ তৈরীর জন্য অনুকুল পরিবেশ। রোগের লক্ষণ এই জীবানূর আক্রমণে সূর্যমুখীর বীজ ধারণকৃত মাথায় প্রথমে পচন শুরু করে। পরবর্তীতে সমস্ত মাথাটি বোটাসহ পচে যায়। চিত্র: সূর্যমুখীর স্ক্লেরোটিনিয়া মাথা পচা রোগের লক্ষণ চিত্র: সূর্যমুখীর রাইজোপাস মাথা পচা রোগের লক্ষণ রোগের প্রতিকার রোগ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করতে হবে। ফসলের পরিত্যক্ত অংশ, আগাছা এবং আবর্জনা পুড়ে ফেলতে হবে। কার্বেন্ডাজিম (যেমন-অটোস্টিন) অথবা কার্বোক্সিন + থিরাম (যেমন-প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি) প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে শোধন করতে হবে। এই ছত্রাকটি সাধারণত মাটির উপরিভাগে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। সুতরাং মাটিকে গভীর চাষের মাধ্যমে রোগের উৎস নষ্ট করে আক্রমণ কমানো যায়। অর্ধকাচা মুরগির বিষ্ঠা হেক্টর প্রতি ৫ টন হারে বীজ বপনের ২-৩ সপ্তাহ আগে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। কার্বেন্ডাজিম (যেমন-অটোস্টিন) প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর গাছে ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। পাতা ঝলসানো (Leaf blight) রোগ রোগের কারণ অলটারনেরিয়া হেলিয়ানথী (Alternaria helianthi) নামক ছত্রাক দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে। রোগের বিস্তার এ রোগটি বীজ ও বায়ুবাহিত। ফসলের পরিপক্ক অবস্থায় আক্রান্ত হলে ক্ষতির পরিমান বেশী হয়। রোগের লক্ষণ প্রথমে পাতায় ধুসর বা গাঢ় বাদামী বর্ণের অসম আকৃতির দাগ পড়ে। এ দাগগুলো একত্রে মিলিত হয়ে বড় দাগের সৃষ্টি করে এবং অবশেষে পুরো পাতা ঝলসে যায়। ফলে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিায়ায় মারাত্মকভাবে ব্যাঘাত ঘটার জন্য ফলনের অনেক ক্ষতি হয়। চিত্র: সূর্যমুখীর পাতা ঝলসানো রোগের লক্ষণ রোগের প্রতিকার রোগ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করতে হবে, যেমন- বারি সূর্যমুখী-২। ফসল কাটার পর জমিতে ফসরের অবশিষ্টাংশ পুড়ে ফেলতে হবে। কার্বেন্ডাজিম (যেমন-অটোস্টিন) অথবা কার্বোক্সিন + থিরাম (যেমন-প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি) প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে শোধন করতে হবে। পাতায় দাগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে ইপ্রোডিয়ন (যেমন-রোভরাল ৫০ ডব্লিউপি) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম অথবা ডাইফেনোকোনাজল + এ্যাজোক্সিস্ট্রবিন (যেমন-এমিস্টার টপ ৩২৫ এসসি) প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার গাছে স্প্রে করতে হবে। সূত্র ও লেখকঃ বিজ্ঞানী ড. কে. এম. খালেকুজ্জামান