কোয়েল দেখতে কেমন ? কোয়েল হল মুরগির মতো এক ছোটো। মুরগির মতোই কোয়েলের ডিমও খাওয়া যায়। ডিম ছাড়াও কোয়েলকে ‘গরিবের মুরগি বলা হয়ে | - ডিম দেখতে ছোটো, গায়ে কালো কালো দাগ থাকে। থাকে। কোয়েলের পালক সাদা, কালচে - এরা বছরে ২৫০-২৮০ টি ডিম পাড়ে বা সাদা-কালো মেশানো রঙের হয়। - ডিমের ওজন হয় ১০-১২ গ্রাম কোয়েল কেন পালন করা হয় ? হাঁস-মুরগির মতোই কোয়েল পালন করা হয় খাঁচাতে বা ডিপ লিটার পদ্ধতিতে। খাঁচায় ২৪ ঘণ্টা আলো দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কোয়েল পালনের ক্ষেত্রে কয়েকটি সাধারণ তথ্য ৭x৭ ফুট মাপের জায়গার জন্য ৪০ ওয়াটের ১টি বালব হয় মাংস ও ডিমের জন্য। এরা তাড়াতাড়ি ও কম খায়। আকারে ছোটো হওয়ার জন্য কম জায়গায় পালন করা যায়। তুলনামূলকভাবে -কোয়েলের রোগ কম হয় এবং কম দিনে থেকে বাচচা বেরোয় । কোন জাতের কোয়েল পোষার জন্য ভালো ? জাপানিজ কোয়েলই পোষার জন্য ভালো। শুধু ডিম পাড়ার জন্য নয়, মাংসের জন্য ব্রয়লার কোয়েল পোষা যেতে পারে। স্ত্রী কোয়েল ও পুরুষ কোয়েল কী ভাবে চেনা যায় ? কালেদনের বাচ্চার মলদ্বারে যদি লালচে দামি বিন্দু বা দানার মতো দাগ দেখা যায়, তাহলে সেটি পুরুষ। আর যদি বিন্দুটি ধূসর রঙের হয়, তবে সেটি স্ত্রী কোয়েল। পুরুষের গলায় বাদামি আর স্ত্রীর গলায় ও বুকে বয়স অনুপাতে কোয়েলের ওজন কেমনভাবে বাড়ে ? কোয়েলের বাচ্চার (১দিন) ওজন ৬-৭ গ্রাম। ১ মাস পরে এদের ওজন দাঁড়ায় ১২০-১২৫ গ্রাম আর ৫ মাসে ১৪০-১৫০ গ্রাম। সুতরাং জন্মের প্রায় ৫-৬ সপ্তাহ পরে একটি কোয়েল বিক্রি করার মতো অবস্থায় আসে। কোয়েলের ডিম থেকে কীভাবে বাচ্চা তৈরি করা হয় ? এদের হাস, মুরগির মতো ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা হয়। তবে কোয়েলের ক্ষেত্রে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটানোতে অসুবিধা আছে, তাই খুব কম সংখ্যক ডিম থেকে বাচ্চা হয়। এই কারণে ইনকিউবেটর’ বা ডিম ফোটানোর যন্ত্রের সাহায্যে কোয়েলের ডিম থেকে বাচ্চা তৈরি করা হয়। বাচ্চা ফোটানোর জন্য ডিমের ওজন ৮-১০ গ্রাম হওয়া উচিত। ডিম ফুটে বাচ্চা হতে ১৭-১৮ দিন সময় লাগে। কীভাবে কোয়েল বাচ্চার যত্ন নিতে হয় ? জন্মের পরই তাপ দেওয়া খুবই দরকার, কাগজের উপর ভুট্টার গুড়ো বা সুজি ছড়িয়ে দিতে হবে, জল এমন পাত্রে দিতে হবে, যাতে বাচ্চা ঐ পাত্রে পড়ে না যায়। ১০টা বাচ্চার জন্য ১০০ মিলি জল যথেষ্ট থাকার জায়গা খোলামেলা হতে হবে মাঝেমাঝে খাবার পরিবর্তন করে মিশ্রিত দানা দিলে ভালো হয়। একটি পূৰ্ণবয়স্ক কোয়েল থেকে কতটা মাংস হয় ? একটি পূৰ্ণবয়স্ক কোয়েলের ছাড়ানো অবস্থায় মাংস, যকৃত হাড়, ইত্যাদি মিলিয়ে প্রায় ৭৫ গ্রাম ওজন দাঁড়ায়। কোয়েলের ডিম বা মাংস কীভাবে ব্যবহার করা হয় ? নিজের খাওয়া আর বিক্রি করা ছাড়াও ডিমের আচার, মাংসের আচার ও বিভিন্ন ধরনের মাংস-জাত খাবার বানানো যায়। কোয়েলের ডিম বা বাচ্চা কোথায় পাওয়া যাবে ? কোয়েলের ডিম বা বাচ্চা পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করতে হবে এই ঠিকানায় : সহ অধিকর্তা, টালিগঞ্জ মুরগি খামার, কলকাতা-৪০। এছাড়া এলাকার ব্লক প্রাণী সম্পদ আধিকারিকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যেতে পারে। কোয়েল পালনের জন্য আর্থিক সহযোগিতা কোথায় পাওয়া যাবে ? কোয়েল পালনের জন্য আর্থিক সহযোগিতা পাওয়া যায় ডি.আর.ডি.সি. / ব্যাঙ্ক / তপশিলী জাতি ও আদিবাসী উন্নয়ন নিগম প্রভৃতির কাছ থেকে। কোয়েলের রোগ হলে কী করা দরকার ? অসুখ হলে স্থানীয় পশু চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে। তবে যত্ন ও পরিচর্যা ভালো হলে কম অসুখ হয়। কোয়েলের বিমা করা দরকার কেন ? কোন কোন সংস্থায় বিমা করা যেতে পারে ? রোগে বা অন্য কোনো কারণে পাখি মারা গেলে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কোয়েলের বিমা করে রাখা দরকার। বিমা করা থাকলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়। কয়েকটি বিমা সংস্থার নাম ২০ নং প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে। বিমা করা বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য জেলা বা মহকুমা শহরে বিমা কোম্পানিগুলির কার্য্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে। সু্ত্র: পঞ্চায়েত এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, গভর্নমেন্ট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল